Breaking
4 Apr 2025, Fri

ব্যারাকপুরে গুন্ডা রাজের অবসান চেয়ে শান্তির দাবিতে রাজপথে সুশীল সমাজ

শোভনলাল রাহা, নৈহাটি

গুন্ডারাজ নয় শান্তি চাই। ব্যারাকপুরের পর এই একই দাবিতে নৈহাটিতেও পথে নামল সুশীল সমাজ। রবিবার সন্ধ্যায় নৈহাটি ফেরিঘাট থেকে নৈহাটি পুরসভার গেট পর্যন্ত অরাজনৈতিক মহামিছিলে পা মেলালেন নাট্যকার থেকে নাট্যকর্মী, সঙ্গীতশিল্পী, সাহিত্যিক অক্ষর কর্মী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিনয় ও ক্রীড়া জগতের দিকপাল ব্যক্তিত্বরা। ছিলেন আবৃত্তি, নৃত্য, সঙ্গীত শিল্পীরাও। এদিন তাঁরা মনে করালেন ২০১৯ এর ভোট ও ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ভয়ংকর স্মৃতি। রাজনীতিক থেকে আপামর সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের আবেদন, এলাকায় সেই সন্ত্রাসের আবহ যেন আর ফিরে না আসে।

মিছিলের আহ্বায়ক বিশিষ্ট নাট্যকার চন্দন সেন জানান, “২০১৯ সালের লোকসভা ভোট পরবর্তী সময়ে নৈহাটি, ভাটপাড়া জগদ্দল, শ্যামনগর ইত্যাদি অঞ্চলজুড়ে নেমে এসেছিল সন্ত্রাস। প্রায় দু’মাস বন্ধ ছিল এলাকার সমস্ত স্কুল। এলাকায় দীর্ঘদিন মোতায়েন ছিল পুলিশ বাহিনী। ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠেছিল। বিগত পাঁচ বছরে বহু মানুষ খুন হয়েছেন। আবার লোকসভা ভোট আসন্ন। তাই এলাকায় এই গুন্ডারাজ ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে দলমত নির্বিশেষে পথে নেমেছে সুশীল সমাজ।”

কিন্তু এতদিন পর ভোটের মুখে কেন পথে নামল সুশীল সমাজ? জবাবে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি তথা বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. রতনকুমার নন্দী বলেন, “এলাকার সুশীল সমাজ এর আগেও বহুবার পথে নেমেছে। বিগত লোকসভার পর নৈহাটিতে বারবার পথে নেমে মিছিল ও সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভূমি এই নৈহাটির সুশীল সমাজ।”
সঙ্গীতজ্ঞ রাজা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গত ১ মে ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে চিড়িয়া মোড় হয়ে স্টেশন পর্যন্ত বুদ্ধিজীবীদের একটি মিছিল করেছি আমরা। সেদিনও দাবি ছিল একটাই। ব্যারাকপুরে গুন্ডারাজ নয়, শান্তি চাই।”

নৈহাটি নরেন্দ্র বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক ড. শান্তনু কুণ্ডু বলেন, ” গত লোকসভা ভোট পরবর্তী গুন্ডারাজ ও সন্ত্রাসের জেরে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের আসতে দিতে পারেননি অভিভাবকরা। যে ভাটপাড়াকে একসময় বলা হত প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, সেই ভাটপাড়া-জগদ্দল অঞ্চল বোমা, গুলি, বারুদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। দিনে-দুপুরে সন্ত্রাস হয়েছে, খুন হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে পথে নেমেছি। ভোট আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। যাঁকে ইচ্ছা ভোট দিন। কিন্তু সন্ত্রাস ও গুন্ডারাজ যেন বন্ধ হয়। ব্যারাকপুরের হারানো গৌরব যেন ফিরে আসে। ফিরে আসুক শান্তি। এই একটাই দাবি আমাদের।”

শান্তির পক্ষে অরাজনৈতিক এই মহামিছিলে পা মেলালেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের পাঁচ শতাধিক মানুষ। মহিলা সাংস্কৃতিক কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ শুভেন্দু মাইতি, লেখক অরুণ বসু, নাট্য পরিচালক আলোক মিশ্র, সুনীত ভট্টাচার্য প্রমুখ দিকপাল ব্যক্তিত্ব।

Developed by